সব ধরনের গুনাহের কাজ থেকে বেঁচে থাকবে বিশেষ করে বদ নজরী ও গীবত থেকে।
মাও. মুফতি রহমত উল্লাহ দা.বা. এর
দো'আ ও বাণী
নাحمده ونصلي على رسوله الكريم أما بعد
প্রিয় রুহানী সন্তানেরা।
প্রায় দীর্ঘ এক যুগ ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম মেহনত ও কঠোর সাধনা করে উলূমে নববী হাসিল করে অল্প কিছু দিনের মধ্যে পরীক্ষা শেষে যার যার গন্তব্যে চলে যাবে। তোমাদের কাঁধে রয়েছে আল্লাহ ও রাসুলের পক্ষ থেকে মহান দায়িত্ব তা হলো দ্বীনের আলো সারা দুনিয়াতে ছড়িয়ে দেয়াও গোমরাহীর অন্ধকার দূর করা, তাই উক্ত দায়িত্ব পালন করার ক্ষেত্রে তোমাদের মধ্যে যেসকল গুণো থাকা দরকার তা হাসিল করার চেষ্টা করে যাবে।
১। খুলুসে নিয়ত অর্থাৎ দ্বীন ও দুনিয়ার যা কিছু করবে একমাত্র আল্লাহ এবং তার রাসুলের সন্তুষ্টির জন্যই করবে।
২। সব ধরনের গুনাহের কাজ থেকে বেঁচে থাকবে বিশেষ করে বদ নজরী ও গীবত থেকে।
৩। প্রতিটি কাজ কর্ম সুন্নাতের অনুসরণ করবে, সুন্নাতে নববীকে জীবনের একটি অংশে পরিণত করবে।
৪। নিজের ভুল-ত্রুটির প্রতি লক্ষ্য রাখবে, কখনো অন্যের দোষ ত্রুটি খোজার চেষ্টা করবেনা।
৫। পিতা-মাতার খেদমত করবে, যাদের মা বাবা জীবিত আছেন তাদের বড় সৌভাগ্য হলো, তারা মা-বাবার খেদমত করে জান্নাত লাভের পূর্ণ সুযোগ নিতে পারে। তাদের সাথে কখনো খারাপ আচরণ করবে না এবং তাদের সব ধরনের প্রয়োজন পুরা করার চেষ্টা করবে।
৬। কায়দা থেকে বুখারী পর্যন্ত যে সকল উস্তাদের কাছে পড়েছ সকলকে সম্মান করবে, তাদের পরিবার পরিজন বন্ধু বান্ধবদের ও সম্মান করবে। কথা বা কাজে কখনো বেয়াদবীমূলক আচরণ করবেনা, মাঝে মাঝে উস্তাদগণকে সাধ্য অনুযায়ী হাদিয়া দিবে, তাদের প্রয়োজন পুরা করার চেষ্টা করবে।
অবশেষে তোমাদের কাছ আবেদন হলো, তোমরা এ জামিয়া ও তার শুভাকাঙ্ক্ষীদের এবং তোমাদের প্রাণপ্রিয় আসাতিজায়ে কেরাম কে কখনো ভুলবে না।
সর্বদা আমাদের জন্য দুআ করবে তোমাদের দুআ আমাদের সম্বল, পরিশেষে দুআ করি আল্লাহ তায়ালা যেন তোমাদের কে যাবতীয় ফেতনা ফাসাদ থেকে হেফাজত করেন এবং দুনিয়া আখিরাতে সার্বিক সফলতা ও কামিয়াবি দান করেন। আমীন।
মুফতি রহমত উল্লাহ
মুহাদ্দিস ও সহকারী নায়েমে তালিমাত
এদিকে পাশ্চাত্য সভ্যতা নারীদেরকে এসব অপকর্মে পণ্য হিসেবে ব্যবহার করছে। নারী সমাজ ভুলে গেছে ইসলাম প্রদত্ত তাদের মহা মর্যাদা ও অবস্থানের কথা।
আমার প্রিয় ছাত্রীবৃন্দ,
মহান আল্লাহর অশেষ অনুগ্রহ এবং আসাতিজায়ে কিরামের দিননিশি অক্লান্ত পরিশ্রমের বদৌলতে শিক্ষার বহু স্তর পারি দিয়ে আজ তোমরা এ সমাপনী স্তরে উপনীত হয়েছ। শিক্ষাজীবনের দীর্ঘ একটি সময় পার করে আজ তোমরা নববী আদর্শের পতাকাবাহী হিসেবে এ অন্ধকারাচ্ছন্ন সমাজে পা রাখতে যাচ্ছ।
স্নেহের ছাত্রীবৃন্দ আমার,
তোমাদের অবশ্য জানা আছে যে, বিভিন্ন রকমের ফেতনা-ফাসাদে আমাদের এ সমাজ ডুবে আছে। পাশ্চাত্যের অপসংস্কৃতিতে ভরে গেছে ইট পাথরের শহর থেকে অজপাড়াগাঁ পর্যন্ত প্রতিটি জায়গায়। এদিকে পাশ্চাত্য সভ্যতা নারীদেরকে এসব অপকর্মে পণ্য হিসেবে ব্যবহার করছে। নারী সমাজ ভুলে গেছে ইসলাম প্রদত্ত তাদের মহা মর্যাদা ও অবস্থানের কথা। কাজেই এসব ফেতনা-ফাসাদ, পশ্চিমা অপসংস্কৃতি রোধে তোমরা সদা সর্বদা সবুর থাকবে এবং কার্যকরী ভূমিকা রাখার চেষ্টা করবে। দরস-তাদরীস, তালীম-তরবিয়ত এবং উলুমের প্রচার ও প্রসারে নিজেদেরকে যথাসম্ভব নিয়োজিত রাখবে।
বিদায়ী ছাত্রীবৃন্দ আমার,
অবশেষে বলব তোমরা সংসার জীবনে একজন আদর্শ মা হিসেবে সন্তানদেরকে গড়ে তুলবে। তোমরা হতে পারো এযুগের ইমাম আবু হানিফার মা, তোমাদের ওরসে জন্ম নিতে পারে যুগশ্রেষ্ঠ ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মাদের মত ব্যক্তি। আল্লাহ তা'আলা এ প্রতিষ্ঠানকে কবুল করুন এবং তোমাদের ইলম আমলে ভরপুর কামিয়াবী দান করুন। আমিন ইয়া রাব্বাল আলামীন।
আবু লুবাবা মুহাম্মদ মি'রাজ
মুহাদ্দিস, অত্র মাদরাসা।
১/ বুদ্ধিমান ছাত্রীর জন্য উত্তম হলো ফারেগ হওয়ার পর যা কিছু করতে হয় তা একজন দূরদর্শী অভিজ্ঞ মুরুব্বির নেগরানীতে করা, নিজে কোন সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা উচিত নয়।
২/ কওমী মাদরাসার একজন ফারেগী ছাত্রীর জন্য যোগ্যতা অনুযায়ী শিক্ষিকার দায়িত্বে নিয়োজিত হওয়া সর্বাধিক সমচীন।
৩/ যে বিষয়ে পাঠদান করবে তাতে যোগ্যতার ঘাটতি থাকলে পূর্বে যোগ্যতা অর্জন করে নেওয়া উচিত।
৪/ কিতাব বিভাগের শিক্ষিকার জন্য বিশেষ কোন কিতাব পড়ানোর সুযোগ দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের উপর চাপ সৃষ্টিকরা উচিত নয়। উত্তম হল প্রথম পর্যায়ে নিজেই কর্তৃপক্ষের নিকট নিচের দিকের কিতাব পড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করা।
৫/ ঈমানের পর নামাজের গুরুত্ব সর্বাধিক, সুতরাং নামাজের প্রতি উদাসীন থাকা যাবেনা সর্বাবস্থায় নামাজের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন জরুরী।
৬/ মানুষের সাথে লেনদেন আচার ব্যবহার ও মেলা মেশার সময় শরীয়তের হুকুম অনুসরণ করা আবশ্যক, সামাজিক প্রথার নামে অনেক বিদআত চালু রয়েছে। এগুলোথেকে সুকৌশলে দূরে থাকা প্রয়োজন, বিশেষ করে মোবাইলের গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা।
৭/ কুদৃষ্টি বে পর্দা থেকে বেঁচে থাকা আবশ্যক কারণ এতে অন্তরের প্রশান্তি ও ঈমানী নূর বিলুপ্ত হয়, যারা এতে লিপ্ত তারা ঈমানের স্বাদ ও আল্লাহর দীদার থেকে বঞ্চিত হয় ও দ্বীনের গুরুত্ব তাদের দিল থেকে শেষ হয়ে যায় পরিণামে সুন্নতের প্রতি উদাসীনতা সৃষ্টিহয়।
৮/ মনে রাখতে হবে আল্লাহর মা'রেফত হাসিল ও রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রিয় পাত্র হতে হলে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজহল, গুনাহ বর্জন করা। নেক আমল যতটা জরুরী তার চেয়ে বেশী জরুরী গুনাহ বর্জন।
৯/ বর্তমানে গীবত ও কুৎসা রচনা একটি সামাজিক ব্যাধিতে রূপান্তর হয়েছে এর থেকে বেঁচেথেকে বিশেষত আলেমাদের জন্য অত্যাবশ্যক গীবতকারী মানুষের নিকট অপদস্ত হয়। এটা তাওবা দ্বারাও মাফ হয় না। যার গীবত করা হয়েছে তার নিকট ক্ষমাচেয়ে নিতে হয়। এর মূল কারণ অহংকার ও হিংসা।
১০/ হাসাদ ও হিংসা দুনিয়া আখেরাত ধ্বংসের কারণ। অহংকার থেকে এই রোগের জন্ম তাই অহংকার থেকে বেঁচে থাকা।
১১/ অনর্থক কাজ কর্ম কথাবার্তা চলা ফেরা ও মেলা মেশা থেকে সম্পূর্ণ বেঁচে থাকা প্রয়োজন।
আলহাজ্ব মাওলানা সাইফুল ইসলাম
মুহাদ্দিস, অত্র মাদরাসা
বাণীতে আছে— * ইলম অমূল্য রতন কর তারে যতন, ইলম ছাড়া মানুষ পশুর মতন। *
দারুল উলুম তাহফিজুল কুরআন মহিলা মাদরাসার বিদায়ী ও ছায় ছাত্রীদেরকে উদ্দেশ্য করে ইলম সম্পর্কে কয়েকটি কথা আমি বলতে চাই যে, ইলম একটি অমূল্য সম্পদ যা দুনিয়ার মাল-সম্পদ ও টাকা পয়সার মতো বণ্টন করা যায় না। কারণ ইহা নবী করীম (সাঃ) এর থেকে সিনা বা সিনা হতে এই পর্যন্ত এসেছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত চলবে। নবী করীম (সাঃ) বলেছেন, প্রত্যেক বালেগ মুসলমান নারী পুরুষদের ইলম শিক্ষা করা ফরজ। যতটুকু শিক্ষা করলে হালাল হারাম বাঁচিয়া চলতে পারে। নবী করীম (সাঃ) অন্য হাদীসে বলেছেন, যে ব্যক্তি কুরআন এর ইলম শিক্ষা করল এবং অন্যকে শিক্ষা দিল সেই ব্যক্তিই হলো আমাদের মধ্যে উত্তম। ইলম হলো মানবতার জন্য সূর্যের আলোর মত সূর্য যেমনভাবে সূর্যের আলো পৃথিবীর কোনায় কোনায় পৌঁছায়। তেমনি ভাবে একজন হক্কানী কুরআন ও হাদীসের ইলম বহনকারী মানুষের দিলের মূর্খতা ও জাহিলিয়াত দূর করে কুরআন ও হাদীসের ইলম এর মাধ্যমে আল্লাহ ও রসূলের পরিচয় দিয়েছেন। ইলম হলো মানব জাতির জন্য চোখের মত কোনো মানুষের চোখ যদি না থাকে সে পৃথিবীর কোনো কিছু দেখতে পারে না। এমনভাবে কোনো ব্যাক্তির যদি কুরআন ও হাদীসের ইলম না থাকে সে হালাল ও হারাম বাছিয়া চলতে পারে না।
সকল প্রশংসা মহান আল্লাহ তাআলার যিনি আমাদের কে তার দ্বীনের পথে নিয়োজিত থাকার তাওফিক দিয়েছেন। সালাত ও সালাম আখেরী নবী হযরত মুহাম্মদ সা. এর প্রতি, যার উম্মত হতে পেরে আমরা গর্বিত।
নৈতিক চরিত্রের অবক্ষয়ের যুগে মুসলিম জাতির দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে ঐতিহ্য বাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। দারুল উলূম তাহফিজুল কুরআনিল কারীম মহিলা মাদ্রাসা রায়পুরা, এর এক ঝাঁক আলেমার একটি বিপ্লবী নারী কাফেলা জাতিকে উপহার দিয়েছে এবং সেই সাথে মহতী উদ্যোগে প্রকাশিত হতে যাচ্ছে ডায়েরী “আল কুমার” আলহামদুলিল্লাহ। দেশে যখন বিজাতীয় সংস্কৃতি- তর রাহু গ্রাসে নিমজ্জিত, তখন তোমাদের মত এক ঝাঁক নবীন কলম সৈনিক চলমান ভোগময় ও বিনোদন বহুল জীবনের গতি ধারার বিপরীতে ঐশী উৎস ধারা থেকে আহরিত জ্ঞানের মাধ্যমে মানুষের আখলাক ও নৈতিকতা তোমরা পৌঁছে দিবে এদেশের ঘরে ঘরে, আল্লাহ তায়ালা কুরআনে কারীমের মধ্যে যেখানেই মুমিনদের সম্বোধন করেছেন। সেখানেই নারী পুরুষ উভয়ই অন্তর্ভুক্ত করেছেন, তাই তোমাদের কে ও ইসলাম দেশ ও জাতির যথাযথ খেদমতে এগিয়ে আসতে হবে, আমি দুআ করি, তোমাদের অগ্রযাত্রা যেন অর্থবহ হয়। পরিশেষে তোমাদের জন্য দুআ করছি, আল্লাহ পাক যেন তোমাদেরকে সফলতার কানায় কানায় পূর্ণ করেন তোমরাও দুআতে তোমাদের রুহানী পিতাকে স্মরণ রেখো। আল্লাহ পাক অত্র প্রতিষ্ঠানের উসিলায় আমাদের সকল কে কবুল করুন। আমিন।
“ভুলে যেওনা তোমরা তোমাদের মুহতারাম শিক্ষক শিক্ষিকাবৃন্দ ও প্রাণপ্রিয় এই দারুল উলূম মহিলা মাদারাসা কে, যখনই মন চায় চলে আসবে তার আঙ্গিনায়”
মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে অসংখ্য শুকরিয়া যে তিনি আমাদের কে অতি আদর করে ইলমে দ্বীনের পথে আসার তৌফিক দান করেছেন। অগণিত দরুদ ও সালাম সেই নবী সা. এর উপর যার আদর্শকে তোমরা বক্ষে ধারন করে বাস্তবায়নের জন্য নবদিগন্তের পথে পা রাখতে যাচ্ছ। বর্তমানে অধিকাংশ নারী নগ্নতা, বেপর্দা বেহায়াপনায় নিমজ্জিত, সর্বক্ষেত্রে নারীরা বঞ্চিত অবহেলিত, এ কঠিন দুরাবস্থা থেকে মাতৃজাতিকে উদ্ধার করে সুন্নতী রমণি রূপে গড়ে তুলতে বিশিষ্ট আলেমেদ্বীন ও পীরে কামেল হাকীম আকতার সাহেব (রাহ.) এর যোগ্য খলিফা মাও. কামরুল ইসলাম (রহ.) এর মহৎ উদ্যোগ ও অবদানে গড়ে উঠেছে দারুল উলূম তাহফিজুল কুরআনিল কারীম মহিলা মাদ্রাসা।