দারুল উলুম তাহফিজুল কুরআনিল কারীম মহিলা মাদরাসার স্থানটি যে মহৎ প্রাণ ব্যক্তি দান করেছেন তিনি হলেন
পূর্বপাড়া, রায়পুরা, নরসিংদী।
মাদরাসার বৈশিষ্ট্যাবলী
১. প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক ও শিক্ষিকাগণের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে ছাত্রীদের লেখাপড়া ও চরিত্র গঠন।
২. মাত্র এক বছরে অক্ষরজ্ঞান হতে শুরু করে ছহীহ্ শুদ্ধভাবে নূরানী পদ্ধতিতে কুরআন পাক তিলাওয়াতের যোগ্যতা দান।
৩. অযু, গোসল, কাফন, দাফন ইত্যাদি নিত্য প্রয়োজনীয় বিষয়াদি হাতে কলমে শিক্ষাদান।
৪. শরীয়ত সম্মত পর্দাঘেরা একান্ত নিরিবিলি ও পাঠোপযোগী পরিবেশে মাদরাসার বাউন্ডারির ভেতরেই অযু, গোসল ও টয়লেটের সুব্যবস্থা।
৫. যুগোপযোগী বহুমুখী আধুনিক শিক্ষার সমন্বয় সাধনকল্পে আরবি কিতাবাদির পাশাপাশি সম্মানের বাংলা, ইংরেজি, গণিত, ইতিহাস ইত্যাদি জেনারেল বিষয়াদি ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানোর ব্যবস্থা।
৬. বিশ্বখ্যাত ইসলামি শিক্ষাকেন্দ্র ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দের পাঠ্যক্রমের সাথে সামঞ্জস্য রেখে পাঠ্যক্রম সাজানো এবং বাংলাদেশ কওমী মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড (বেফাক)-এর অন্তর্ভুক্ত।
৭. শিক্ষার্থীদের ইলমী ভিত সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে বুনিয়াদী কিতাবগুলো সুচারুরূপে পাঠদান ও আয়ত্তকরণের ব্যবস্থা।
৮. শিক্ষার্থীদের মানবীয় গুণাবলি ও প্রতিভা বিকাশের উদ্দেশ্যে পাঠ্য, সহপাঠ্য ও বিষয়ভিত্তিক, মাসিক সেমিনার, সাহিত্যচর্চা, ইসলামি সংস্কৃতি চর্চা, বিতর্ক অনুষ্ঠান, মুক্ত আলোচনা, সাধারণ জ্ঞান, বক্তৃতা, আবৃত্তি, হামদ-নাত, রচনা, সাপ্তাহিক তরবিয়াতি সভা ও বিভিন্ন পর্ব উপলক্ষে অনুষ্ঠানাদি ও বিজয়ীদের পুরস্কৃতকরণ।
৯. এছাড়া সমসাময়িক বিশ্ব ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের সাথে পরিচিত হওয়ার লক্ষ্যে বাস্তবভিত্তিক প্রোগ্রামাদির ব্যবস্থা।
১০. সহপাঠ্য বিষয়াদিসহ ইসলামি শিক্ষা ও সংস্কৃতির ওপর লিখিত বিভিন্ন লেখকদের প্রচুর বই-কিতাবে সমৃদ্ধ একটি মনোরম পাঠাগারের ব্যবস্থা।
১১. ছাত্রীদের আমল-আখলাকের সংশোধন ও উন্নতির জন্যে রয়েছে নিয়মিত সাপ্তাহিক তরবিয়াতি জলসার ব্যবস্থা।
১২. ক্বিরাত ছহীহ্ করার উদ্দেশ্যে সকল ছাত্রীদের জন্যে প্রতিদিন নিয়মিত সাবাহী মক্তবের ব্যবস্থা।
১৩. প্রশিক্ষিত আবাসিক শিক্ষিকার নিয়ন্ত্রণে ছাত্রীদের প্রাত্যহিক পাঠ শেখানোর ব্যবস্থা।
১৪. অভিভাবকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ গ্রহণ।
১৫. প্রাত্যহিক কার্যাবলি রুটিন অনুযায়ী সম্পাদন।
১৬. ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ / নিজস্ব জেনারেটরের ব্যবস্থা।
১৭. পরহেজগার মহিলা বাবুর্চি দ্বারা দৈনিক তিনবার সুস্বাদু, পুষ্টিগুণ সম্পন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত উন্নতমানের খাদ্য পরিবেশন।
১৮. মহিলা গেইটম্যান বা দারোয়ানের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
১৯. ছাত্রীদের আগমন ও প্রস্থানের সময় মাদরাসার গেইটে সংরক্ষিত ‘আগমন-প্রস্থান বহিতে’ নাম ও সময় রেজিস্ট্রির ব্যবস্থা।
২০. সুপ্রশস্ত হলরুম ও অত্যন্ত খোলামেলা পর্দাঘেরা মনোরম আঙ্গিনায় বিচরণ ব্যবস্থা।
২১. মাদরাসার অভ্যন্তরে মহিলা কর্তৃক পরিচালিত সুলভ মূল্যে ক্যান্টিনের ব্যবস্থা।
২২. ছাত্রীদের জন্য কম্পিউটার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা।
ভর্তির নিয়মাবলী
ভর্তির সময় একমাসের খোরাকীর টাকা, একমাসের বেতন, ভর্তি ফি ও আনুসাঙ্গিক খরচ দিয়ে ভর্তি হতে হবে।
শিক্ষাবর্ষ আরম্ভ : আরবি বছরের শাওয়াল মাস থেকে।
ভর্তি আরম্ভ : পুরাতন ছাত্রী- ১০ রমযান হতে।
নতুন ছাত্রী- ৬ শাওয়াল হতে ১৫ শাওয়াল পর্যন্ত (কোটা পূরণ সাপেক্ষে)।
ক্লাস আরম্ভ : ১৫ শাওয়াল থেকে।
ভর্তিচ্ছুক ছাত্রীদের যোগ্যতা : (ক) বয়স: আবাসিক ছাত্রীদের বেলায় ৮/৯ বছর। অনাবাসিক ছাত্রীদের বেলায় ৭/৮ বছর। (খ) নিজের নিত্য প্রয়োজনীয় কার্যাবলি নিজ হাতে সম্পাদনের যোগ্যতা থাকতে হবে। (গ) সকলকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে হবে।
১১০/- টাকার বিনিময়ে এ প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত ফরম সংগ্রহ করে সঠিকভাবে তা পূরণের পর অফিস বরাবর জমা দিয়ে ভর্তি হতে হবে।
নতুন ছাত্রীদের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে এবং উত্তীর্ণ প্রার্থীকেই কেবল প্রার্থিত শ্রেণিতে ভর্তি করা হবে। নতুবা ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী শ্রেণি নির্ধারণ হবে।
পুরাতন ছাত্রীদেরকে ভর্তির সময় ফলাফল প্রতিবেদন বই (প্রগতি বিবরণী) সাথে আনতে হবে।
আসন সংখ্যা সীমিত হওয়ায় ভর্তির ব্যাপারে আসন খালি হওয়ার শর্তে বিশেষ ব্যবস্থায় যে কোনো সময়ে ছাত্রী ভর্তি করার জন্যে বিবেচনা করা যেতে পারে।
পুরস্কারের ব্যবস্থা
সাক্ষাতের শর্তাবলী
সাক্ষাৎ/বাড়ি যাবার জন্যে মাদরাসার অফিস থেকে সংশ্লিষ্ট ছাত্রী ও আবাসিক ফরমের ১ম পৃষ্ঠায় ৭নং ক্রমিকে বর্ণিত অভিভাবকত্রয়ের পৃথক পৃথকভাবে যথা নিয়মে পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে হবে। পরিচয়পত্র শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকে এক বছরের জন্যে কার্যকর বলে গণ্য হবে। আবাসিক/অনাবাসিক সকল ছাত্রীদের গমনাগমনে নির্ধারিত পরিচয়পত্র দেখাতে হবে। অন্যথায় গমনাগমন করতে দেয়া হবে না। সাক্ষাতের সময় অফিস কর্তৃক অনুমোদিত অভিভাবকগণ অবশ্যই স্বীয় পরিচয় পত্র সাথে আনতে হবে। পরিচয় পত্র হস্তান্তরযোগ্য নয়। অভিভাবক ও মেহমানদের থাকা-খাওয়া (আবশ্যক হলে) অবশ্যই কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে হতে হবে। কোনো শিক্ষার্থী ক্লাস চলাকালীন সময়ে মাদরাসার ভেতরে কোনো আত্মীয়-স্বজন নিয়ে আসতে পারবে না এবং কোনো অভিভাবিকাও সরাসরি পাঠ কক্ষে প্রবেশ বা শিক্ষার্থীর সাথে সাক্ষাৎ করতে পারবে না। প্রতি একমাস অন্তত একবার মাদরাসায় এসে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর শিক্ষা-দীক্ষাসহ সার্বিক অবস্থার খোঁজ-খবর নিতে হবে এবং কর্তৃপক্ষের সাথে মতবিনিময় ও যোগাযোগ রক্ষা করে চলতে হবে। মোবাইলে বা ফোনে শিক্ষার্থীর সাথে সরাসরি যোগাযোগ করে কুশলাদি জানতে চাইলে আসরের পর থেকে মাগরিবের পূর্ব পর্যন্ত কথা বলার সুযোগ থাকবে। বোরকাবিহীন বেপর্দা অবস্থায় কোনো মহিলা বা কোনো গাইরে মাহরাম লোকের সাথে দেখা দেয়া বা কথা বলা যাবে না। নির্ধারিত সময় ছাড়া অন্য কোনো সময়ে সাক্ষাৎ করতে দেয়া হবে না। জরুরী প্রয়োজনে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ক্রমে সাক্ষাতের সুযোগ গ্রহণ করা যাবে।
বিশেষ আকর্ষণ
পাঠদান পদ্ধতি
পরীক্ষা পদ্ধতি